নৌকোটি কাঠের কেন

শান ভারতের বাঙালি যে কবির নামে শ্লাঘা বোধকরে সেই শক্তিপদ ব্রহ্মচারী ‘সোনার তরী’র কবিকে উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর কবিতার বই ‘কাঠের নৌকা’। কেন, সেটি বুঝবার উপায় নেই। সে নামে বইটিতে কোনো কবিতাই ছিল না। তবে ‘বিসমিল্লার সানাই’ কবিতাতে বোধহয় কিছুটা কারণ জানাবার চেষ্টা করেছিলেন এভাবেঃ
“ সব কথারই উল্টো একটা কথা/সাজানো যেতে পারে যুক্তি দিয়ে/ কিন্তু তুমি জানো তো সুন্দরী/সুন্দরের সঙ্গে তোমার বিয়ে...যুক্তি গড়ি, যুক্তি ভাঙি মনে/ভাঙা গড়ার তুমুল ব্যাকরণে/ শিব বা বাঁদর যা কিছু বানাই/ নষ্ট করে বিসমিল্লার সানাই।” এমন উল্টো কথার পাল্টা পুরাণই ছিল ‘কাঠের নৌকা’। পন্ডিতেরা তাঁর আরো অন্য অর্থ বের করে নিতে পারেন। আমরা যে কথা ভেবে তাঁর সেই বইটির নাম তুলে নিলাম এই ব্লগের নাম দিতে তাঁর সোজা সাপটা কারণটি এই যে আমাদের কোনো অর্থেই এক ‘সোনার তরী’ নেই । বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের মাঝি মাল্লারা এখনো আমাদের সোনার ফসলকে তুলে নেবার জন্যে আমাদের ঘাটে এসে তরী ভিড়াবার কথা ভেবেছেন বলে যেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে কেউ কেউ আমন্ত্রণ পেয়ে এসে মালা চন্দনের বিনিময়ে কিছু কিছু উচ্ছ্বাস বিস্ময় প্রকাশ করেন বটে। তারপর ঘাট বদলের বেলা এলে আমরা যেই ভাবি ‘এতকাল নদীকূলে যাহা লয়ে ছিনু ভুলে সকলি’ দেব তুলে, জিহ্ব কেটে সে মাঝিরা বলে বসেন, “ইস! আগে জানলে...এখন যে ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী...”। আমরাতো পড়েই থাকি, আমাদের ফসলও থাকে পড়ে! আমাদের কেউ কেউ পসরা জমাতে বরাক,খোয়াই, ব্রহ্মপুত্র অতিক্রম করে ভাগীরথীর তীরে পাড়ি দিলে শক্তিপদ তাঁকে চিঠি লেখেন---আমাদের, “ দিন কেটে যায় হীরামনটির ঘরে/ কথ্যভাষার সাবলীল বন্দরে/চারদিক হতে কেবলি শাসায়, ছুটি/ তুমি ভালো থেকো, আমি আছি মোটামুটি । ( বন্দরের কথ্যভাষা, রণজিৎ দাশ প্রীতিভাজনেষু)

          আমাদের এই মোটামুটি থাকা নিয়ে গুয়াহাটির কবি সঞ্জয় চক্রবর্তী লেখেন আরেক পত্রোত্তর। আমাদের এই ব্লগের কৈফিয়ত হতে পারে সঞ্জয়ের সেই ‘আমি একা নির্জন ঘরে’ কবিতাটিঃ
গঙ্গাপারের ছেলে, তোমার চিঠি এলো উড়ে/ লিখেছ,ভালো আছো, খুব গান শুনছ আজকাল;/রবীন্দ্র –দ্বিজেন্দ্র-অতুল-নজরুল।/ আমার ঘরেও চুপে বাজেন, যখন করি ভুল।/তোমার আছে উৎসবের অজয়-ইন্দ্রাণী/আমার কোনো গান নেই, তোমার গানই শুনি।//
গঙ্গাপারের ছেলে, তোমার মতো আমিও/বাংলায় খাই, বাংলায় শুই, বাংলায় কাঁদি,বাংলায় হাসি।/স্বপ্ন দেখা—সেও বাংলায়, বাংলায় ভালোবাসাবাসি।/তফাত শুধু এইটুকু---/তুমি বুক ফুলিয়ে পাড়ায় পাড়ায়,ট্রাম-বাসের ভিড়ে/ আমি একা, নির্জন বিষন্ন এক ঘরে।//
মিলিদি প্রায়ই বলে ফোনে,/বল,ঠিক কোন কারণে, তুই পড়ে আছিস ওখানে।/গড়িমসি ছাড়,এক্ষুনি উড়ে চলে আয়/ আমাদের কোলকাতায়।/হাসবি, নাচবি,গাইবি, কাঁদবি,/এমনকি মরবিও বাংলায়।// ডাকলেই যাওয়া যায়,মিলিদি বলো.../আমারওতো ইচ্ছে করে পাখি হতে, শিস দিতে,/আমারও ইচ্ছে করে ঘর থেকে বাহির হতে/যতই ডাকো,ডাকলেই যাওয়া যায়...//গঙ্গাপারের পথিক, বলতে পারো সঠিক/কোথায় আমার সাকিন!// চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ কোথায় শির,/কোন ভুবনে থাকব বলো হয়ে সুস্থির।// যদি এরকম হত, আমার নিজের মতো/গুছিয়ে নেয়া যেত রাজপাট/তাহলে দুয়ারে আর মাথাকাটা কেন, বালাই ষাট// মিলিদি, গঙ্গাপারের ছেলে, শোনো গাঢ় সিঁদুরের ভিতর গভীর বাতাসের ধ্বনি/চিরকাল বাজাবে তার অমোঘ খঞ্জনি// একা নির্জন ঘরে বিষন্ন থাকা ভালো।
              
               সঞ্জয়ের মতো আমাদেরও দ্রঢ় প্রত্যয়, “গাঢ় সিঁদুরের ভিতর গভীর বাতাসের ধ্বনি/চিরকাল বাজাবে তার অমোঘ খঞ্জনি।” সেই বাজনা শোনাতে এই ‘কাঠের নৌকা’ব্লগের পরিকল্পনা। শুরু হলো, শিলচরের কবি বিজয় কুমার ভট্টাচার্যের সম্প্রতি প্রকাশিত গদ্য গ্রন্থ ‘১৯শের খোঁজে’ আর তেজপুরের কবি তপন মহন্তের সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ ‘সময় অস্থিময়’ দিয়ে। এর মানে এই নয় যে এই ব্লগে থাকবে কেবল কবিদের কথা, কবিদের লেখা। কেবল গল্পকার বা ঔপন্যাসিকদের লেখা। না, শুধু সাহিত্যের ব্লগ এ হবে না। আমাদের চেষ্টা হবে এই ঈশান ভারতের আট রাজ্যে বাংলা ভাষাতে যা কিছু লেখা ছাপা হবে সম্ভব হলে তার সবটাই এনে জোগাড় করে এখানে এই আন্তর্জালিক বিশ্বে উপস্থিত করা। ভাষা বাংলা আর স্থান এই ঈশান ভারত। এই আমাদের বিবেচ্য। এর বাইরে লেখক , প্রকাশক কিম্বা সম্পাদকের দর্শন,রাজনীতি, আদর্শ, জাতি , বর্ণ কিম্বা অঞ্চল কোনটা--- সে আমাদের কাছে বাহ্য এবং যথা সম্ভব পরিত্যাজ্য বলে বিবেচিত হবে। আমরা আশা করব, পাঠকের উৎসাহ আমাদের যাত্রা সুগম করবে । আর লেখক , প্রকাশক কিম্বা সম্পাদকেরা তাদের প্রকাশনার একটা পিডিএফ (Pdf)কপি করে আমাদের পাঠাবেন। যে বই বা পত্রিকা প্রকাশ পেতে যাচ্ছে তার পান্ডুলিপিও পাঠাতে পারেন ।কিন্তু সেটি ইউনিকোডে হওয়া চাই অবশ্যই। বাকিটা আমরা করব স্বেচ্ছাশ্রমের আনন্দে।

                                          
পিডিএফ করবার পদ্ধতি না এলে এখানে দেখতে পারেনঃ
১) পেজমেকার থেকে জানতে এখানে ক্লিক করে দেখুন।
২) ফটোশপ থেকে করতে এখানে দেখুন।
৩) দুই ক্ষেত্রেই আপনার লাগবে এক্রোব্যাট ডিস্টিলার। সেটি এখানে পেয়ে যাবেন। অথবা কিনে নিন।

নিচের ভিডিওটিতেও  ই-বই করবার উপায় বলে দেয়া আছে।


Related Posts with Thumbnails